রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৩৮

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আরও গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে চীন

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আরও গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে চীন

নিজ ভূমি মিয়ানমারে ফিরতে রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহ প্রকাশে এবং দেশটির সরকারের প্রতি অনাস্থার ঘটনায় ইতোমধ্যেই প্রত্যাবাসন নিয়ে বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ। তবে সংকট সমাধানে চীন আরও গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন দেশটির নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত লি জিমিং।    

বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত জানান, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের পথ খোঁজাসহ ‘বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে’ তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। 

বার্তা সংস্থা ইউএনবি কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, সর্বশেষ প্রত্যাবাসন চেষ্টায় বাংলাদেশের সাথে চীনও মাঠে ছিল। দ্বিতীয় দফাও ভেস্তে যাওয়ায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু করতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে পথ খোঁজার চেষ্টা চলছে।

গত ২২ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় রোহিঙ্গাদের মাতৃভমি মিয়ানমারের রাখাইনে প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়। কিন্তু রোহিঙ্গাদের অনিচ্ছার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে পরবর্তী তিন মাসে মিয়ানমারে সেনা নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে আশ্রয় নেয় ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। এদের মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার রোহিঙ্গা নারী গর্ভবতী অবস্থায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর আগে ১৯৬৮ সাল থেকে বাংলাদেশে আশ্রিত রয়েছে আরও অন্তত চার লাখ রোহিঙ্গা। নতুন করে অনুপ্রবেশের পর গত ২০ মাসে এখানে জন্ম নিয়েছে আরও প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা শিশু। জানা গেছে, ক্যাম্পগুলোতে প্রতিদিন গড়ে জন্ম নিচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ শিশু।

বর্তমানে নিবন্ধনের আওতায় এসেছে ১১ লাখ ১৮ হাজার ৪১৭ জন রোহিঙ্গা। এরা উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান করছে। মিয়ানমারে জাতিগত নিধন ও হত্যার শিকার রোহিঙ্গাদের বিপুল জনগোষ্ঠীকে শুরুতে মানবিক কারণ দেখিয়ে আশ্রয় দেয় বাংলাদেশ। তবে এত অধিক জনসংখ্যার ছোট দেশে এত সংখ্যক রোহিঙ্গাদের দীর্ঘসময় ধরে আশ্রয় দেওয়া সম্ভব নয়। দিনকে দিন এই বোঝা বেড়েই চলেছে বাংলাদেশের জন্য। তবে কোনো সুরাহা এখন পর্যন্ত মেলেনি। 

গত বছরের ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রথম সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু রোহিঙ্গারা রাজি না হওয়ায় একজনকেও ফেরত পাঠানো যায়নি। সে সময় তারা অভিযোগ করেন, মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি।

সর্বশেষ গত ২২ আগস্ট ব্যাপক প্রস্তুতির পরও রোহিঙ্গাদের অনিচ্ছার কারণে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন শুরুর কার্যক্রম আটকে যায়। পরে দুপুরে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম সাংবাদিকদের জানান, সাক্ষাৎকার দেওয়া ২৯৫ রোহিঙ্গা পরিবারের কেউ স্বেচ্ছায় মিয়ানমার ফিরতে রাজি নয়।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর চুক্তি সই করে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। পরে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি দুই দেশ মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ নামে চুক্তি করে। ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ চুক্তি অনুযায়ী, প্রত্যাবাসন শুরুর দুই বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ বিষয়ে অগ্রগতি নেই বললেই চলে।

রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবাসনের আগে যাচাইয়ের জন্য গত ২৯ জুলাই ছয় হাজার পরিবারের ২৫ হাজার রোহিঙ্গার নতুন একটি তালিকা মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করে বাংলাদেশ। এ নিয়ে বাংলাদেশের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৫ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা পেয়েছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তারা প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য ছাড়পত্র দিয়েছে মাত্র ৩৪৫০ জন রোহিঙ্গাকে।

আপনার সামাজিক মিডিয়াতে এই পোস্ট শেয়ার করুন....

Leave a Reply




সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২০-প্রিয় যশোর
Developed BY Nagib
themebadpriyoujash22334