বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ০৯:১৭

ভয়াবহ পণ্যজট বেনাপোল বন্দরে

ভয়াবহ পণ্যজট বেনাপোল বন্দরে

বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্যজট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।ধারন ক্ষমতার দ্বিগুন পন্য বন্দর অভ্যন্তরে রয়েছে বলে বন্দর ব্যবহারকারিদের দাবি।

ব্যবহারকারিরা বলছেন,অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে একটি ট্রাক ভারত থেকে প্রবেশ করে পণ্য খালাস করে ফেরত গেলে আরেকটি ঢুকছে। বন্দর অভ্যন্তরে স্থানাভাবে পন্য খালাসের দীর্ঘসূত্রিতার কারনে ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

অবশ্য বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছেন,করোনা মহামারির কারণে বন্দর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর হঠাৎ করে আমদানি বাড়ায় এই অবস্থার সৃষ্ঠি হয়েছে।ঈদের আগে পরে দশদিন শুধুমাত্র ভারত থেকে পন্য এসেছে। বন্দর থেকে দেশের অভ্যন্তরে পন্য ডেলিভারি হয়নি।ট্রাক চলাচলে সরকারি বিধিনিষেধ,বর্ষা ও ফেরি ঘাটের অবস্থা খারাপ হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বন্দর থেকে পন্য খালাস না নেওয়ায় পন্যজট বেড়েছে।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আইন বিষয়ক সম্পাদক মশিয়ার রহমান বলেন, বেনাপোল বন্দরে বর্তমানে ৩২টি শেড ও ১০টি ইয়ার্ড রয়েছে।যেখানে পণ্য ধারণ ক্ষমতা মাত্র ৫১ হাজার মেট্রিক টন। বর্তমানে বন্দরটিতে এক লাখ মেট্রিক টনের বেশি পণ্য রয়েছে। জায়গা সঙ্কটের জন্য অনেক পণ্য রাখা যাচ্ছে না। ভারতীয় ট্রাকগুলো পণ্য নিয়ে দিনের পর দিন বসে আছে। বন্দরে জায়গা না থাকায় আনলোড করতে পারছে না। বাইরে যত্রতত্রভাবে ফেলে রাখা হচ্ছে এসব পণ্য। এতে করে পণ্য চুরিসহ নানাভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন আমদানিকারকরা।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবির তরফদার বলেন, ভারত থেকে প্রতিদিন স্বাভাবিক সময়ে সাড়ে ৪শ থেকে ৫শ আমদানি পণ্যবোঝাই ট্রাক বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করলেও এখন তা দাড়িয়েছে ৩শতে।করোনাকালিন সময়ে প্রতিদিন ভোর থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ভারত থেকে পন্যবাহি ট্রাক ঢুকিয়ে তা বেলা ৫টার মধ্যে ফেরত পাঠানোর নিয়ম থাকলেও ওরা সকাল ৯টার আগে ট্রাক ঢোকাতে পারে না।আর রাত ১০টা পর্যন্ত ট্রাক আসতে থাকে।এতে দিনের দিন ট্রাক ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।অনেক ট্রাক আটকে থাকছে।সোমবার রাতে ঢোকা এমন ১৭৭টি ট্রাক আটকে আছে।এটা ওদের অনিয়মের কারনে হচ্ছে।

ইন্দো-বাংলা চেম্বার অব কমার্স সাব কমিটির পরিচালক মতিয়ার রহমান বলেন,বেনাপোল বন্দরে জায়গা সঙ্কট দীর্ঘদিনের। আমরা বারবার জায়গা বাড়ানোর দাবি করলেও কেউ শুনছেন না। বন্দরে জায়গা সঙ্কটের কারণে পেট্রাপোলে হাজারো পণ্যবাহী ট্রাক দাঁড়িয়ে রয়েছে।সেখানে তারা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে।বন্দরের আশপাশে বেসরকারিভাবে ওয়্যারহাউস নির্মাণ ও আইসিটি গড়ে তোলাটা এখন সময়ের দাবি বলেন মতিয়ার।

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন, পন্যাগারে স্থানাভাবে বেনাপোলে প্রবেশের আগে পণ্যবাহী ট্রাক পেট্রাপোলে দাঁড়িয়ে থাকায় সঠিক সময় ওই আমদানি পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না। আবার ওপারে দাঁড়িয়ে থাকলে ডেমারেজ বাবদ প্রতিদিন তিন হাজার টাকা অতিরিক্ত গুনতে হয়। কোনো কোনো ট্রাক ১০দিনও পেট্রাপোলে দাঁড়িয়ে থাকছে।এই অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে বলেই ব্যবসায় লোকসান হচ্ছে।এরসঙ্গে পন্যের গুনগত মানও নষ্ট হচ্ছে।
চট্টগ্রামের বিএসআরএমের নির্বাহী পরিচালক তপন সেন গুপ্ত বলেন,ঈদের আগে পরে পণ্য আমদানি বাড়ায় বেনাপোলে জট লেগেছে।আমরা ১০ দিন পর সোমবার পণ্য খালাস করতে পেরেছি। তবে অন্য সময় খালাস প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে।

যশোর মোটর পার্টস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শাহিনুর হোসেন বলেন, বেনাপোলে পণ্যজট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।ওপার থেকে বেনাপোলে প্রবেশ করতে ১০ দিন সময় লাগছে। আবার তাড়াহুড়া করে পণ্য খালাস করায় অনেক সময় পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন,বেনাপোল স্থলবন্দর দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর।পন্যাগার,ইয়ার্ড ও জায়গায় অভাবে বন্দরটি অচলাবস্থার মধ্যে পড়েছে।খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে।ধীরে ধীরে বন্দরটি ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।এই বন্দরকে আরও গতিশীল করতে প্রথমেই জায়গা সঙ্কট দূর করতে হবে। জায়গা সঙ্কটের কারণে অনেক পণ্য রাখা যাচ্ছে না।

“বেনাপোল বন্দরকে বাণিজ্যের উপযোগী করে তুলতে এর ধারণ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি নির্মাণ করতে হবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। বাড়াতে হবে পন্য উঠানামার যন্ত্রপাতি।সরকার যদি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করে তাহলে বন্দরটি শিগগিরই অচল হয়ে পড়বে।”

বন্দরের জায়গা সঙ্কট ও যন্ত্রপাতি স্বল্পতার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবির তরফদার বলেন,এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য ইতোমধ্যে ৮৭কোটি টাকা ব্যয়ে বৃহৎ দুটি ইয়ার্ড নির্মাণ করা হয়েছে।এতে পণ্য ধারণ ক্ষমতা বেড়েছে। ২৫একর জায়গা আমরা অধিগ্রহণ করেছি। আরও সাড়ে ১৬একর জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।শিগগিরই ২৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বোনপোলে কার্গো ভেহিক্যাল টার্মিনাল স্থাপনের কাজ শুরু হবে।করোনার কারনে কাজ একটু পিছিয়ে যাচ্ছে।এসব বাস্তবায়ন হলে এই বন্দরে আর কোনো সমস্যা থাকবে না।

বেনাপোল শুল্কভবনের কমিশনার আজিজুর রহমান বলেন,বন্দর থেকে পন্যচালান খালাসের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে সতর্কতার সাথে সবাইকে কাজ করার জন্য বলেছি।আমরা পূর্ণপরিসরে স্বাভাবিক সময়ের মতো অফিস খোলা রেখেছি।দ্রুত পন্যচালান খালাসের জন্য সবসময়ের জন্য প্রস্তুত আছি বলে তিনি জানান।

আপনার সামাজিক মিডিয়াতে এই পোস্ট শেয়ার করুন....

Comments are closed.




সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২০-প্রিয় যশোর
Developed BY Nagib
themebadpriyoujash22334